প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

জাতীয়
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি


চলতি বছর এসএসসির এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কোনোটির আংশিক, আবার কোনটি হুবহু মিলে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠন করা যাচাই-বাছাই কমিটি। তবে সব পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর এসব বিষয়ে সরকারের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করবে কমিটি। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নের হুবহু মিলে যাওয়া পরীক্ষাগুলো বাতিলের সুপারিশও করা হবে।

রোববার যাচাই-বাছঅই কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের পর কমিটির প্রধান 'কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে'র সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

বৈঠকের পর তিনি বলেন,'অংক বিষয়ে ফেসবুকে তারা বলেছে চার সেটই ফাঁস করলাম। আমরা মিলিয়ে দেখলাম একটাও মেলেনি। কিন্তু আবার ইংরেজির ক্ষেত্রে কিছু মিল পেয়েছি। এজন্য আমরা আরও দেখবো, দেখে সিদ্ধান্ত নেবো। বাকি সব পরীক্ষা দেখবো।'

ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা-জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, 'পাবো না কেন? আছে তো, আংশিকতো আছেই। কিছু কিছু প্রশ্নপত্রের আংশিক আছে, কিছু কিছু পুরোপুরি আছে।' হুবহু মিলে যাওয়া প্রশ্ন নিয়ে সচিব বলেন, 'কিছু কিছু তো সরাসরি হুবহু মিলে গেছে। সেটা কেনও আমরা সাজেশন মনে করবো?'

কোন কোন বিষয়ের প্রশ্নপত্র হবহু মিলে গেছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, 'একটা পেয়েছি আমরা। এটা তো এখন বলবো না। যখন সুপারিশ করবো তখন বলবো।'

ওই পরীক্ষা কি বাতিলের সুপারিশ করবেন- জবাবে সচিব বলেন, 'হ্যাঁ, যদি দেখা যায় যে কোনো প্রশ্ন হুবহু পুরো মিলে গেছে এবং সেটা যদি দেখা যায় যে পরীক্ষার দিন..। যেমন অবজেকটিভ টাইপের প্রশ্ন যদি ফাঁস হয়ে থাকে তাহলে বাকি পরীক্ষা নতুন করে নেব না। শুধু অবজেকটিভের জন্য পরীক্ষা হবে, যদি পরীক্ষা চলার এক'দুঘণ্টা আগে বা তিন ঘণ্টা আগে বা আগের দিন ফাঁস হয়ে থাকে। আর যদি দেখা যায় পরীক্ষা চলাকালীন ফাঁস হয়েছে, তাহলে তো পরীক্ষা চলাকালীন বা আধা ঘণ্টা আগে তো পরীক্ষার্থীরা ঢুকে গেছে। তখন হয়তো ৫০০ ছেলেমেয়ে এটার সঙ্গে জড়িত, তখন তো ২০ লাখ ছেলেমেয়ের পরীক্ষা বাতিল করা ঠিক হবে না।'

ওটা বাতিলের সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, 'হতে পারে। আমরা সুপারিশ করবো। কিন্তু বাতিল করবে কিনা, এটা তো অথরিটির বিষয়।'

এমসিকিউ না পুরো পরীক্ষা বাতিল হবে তা বলেননি সচিব। তবে তিনি বলেন, 'আমরা ২৫ তারিখে বসে পরীক্ষা করবো কতজন প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। আর কতক্ষণ আগে ফাঁস হয়েছে বা কত নম্বরের ফাঁস হয়েছে, কত নম্বরের মিলেছে।'

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি আবার বৈঠকে বসবে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানান সচিব।

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের তথ্য দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, 'ফেসবুক গ্রুপগুলো কখন, প্রশ্ন বেচাকেনা করেছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছে কী প্রশ্ন পাওয়া গেছে, যেমন ফরিদপুরে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছে যে প্রশ্ন তা হুবহু মিলে গেছে। তারা এটা বলেছে।'

মূল হোতা করা জানতে চাইলে সচিব বলেন, 'এটা তো আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এখন তো তারা ফাঁস করবে না। বলা হলে তো দায়ী ব্যক্তিরা কেয়ারফুল হয়ে যাবে।'