খালেদার সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

রাজনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

খালেদার সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী


দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তিনি বলেন, বিচারক খালেদা জিয়ার বয়স, সামাজিক মর্যাদা ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় অপরাধের তুলনায় সাজা কম দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী তার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত 'রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন এবং দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও আইন উপকমিটির চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, স্বদেশ রায়, মনজুরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিম। ক্ষমতাসীন দলের ব্যতিক্রমী এ আলোচনা সভায় আলোচকদের দু-একজন ছাড়া সবাই মূলত বিএনপি ও জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটিকে 'রাজনৈতিক মামলা' হিসেবে পরিচিত করার অপপ্রচার চালানোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ মামলার সঙ্গে রাজনীতি ও আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। স্বাধীন বিচার বিভাগের একটি আদালত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন। তারা (বিএনপি) মূল ব্যাপারটি অন্যদিকে ধাবিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার, তিনি তাই করছেন। অপরাধী যে দলেরই হোক, অন্যায় করলে তার বিচার হবে।

খালেদা জিয়ার রায়ের আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আগেই বুঝতে পেরেছিল, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হবে। সে কারণেই গঠনতন্ত্রে এ পরিবর্তন এনেছে। খালেদা জিয়ার সাজার মধ্য দিয়ে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তের সময় পরিস্কারভাবে উঠে এসেছে, জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিএনপি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ধারণ করেছে, লালন করেছে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে মিশনগুলোতে চাকরি দিয়েছে।
তারেক রহমানের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পলাতক আসামি- এটা ওদের কালচার। নির্লজ্জ একজন পলাতক আসামি তারেক রহমান, যিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাকে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কি দেশে এসে হাইকোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারতেন না? তার সেই সাহস নেই। কারণ তিনি জানেন, তিনি সত্যিই অপরাধী। তাই তিনি কোর্টের বাউন্ডারি তো দূরের কথা, এ দেশে পর্যন্ত আসতে চান না।