Saturday, Nov 04 2017

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কঠোর সমালোচনা করলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তিনি অভিহিত করলেন ‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ সংগঠন হিসেবে। আর ছাত্রলীগকে নিয়ে বললেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার খেটেখুটে যে সুনাম অর্জন করে, তা ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়।’

বুধবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের এক যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত না করায় সভায় সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ এখন সাইনবোর্ড সর্বস্ব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই দলের নেতা সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। তোমাদের এর আগেও পাঁচবার সম্মেলন করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তোমাদের সারাদেশে অনেক জেলাতেই কমিটি আছে দুই জনের। কোথাও আছে আহ্বায়ক কমিটি। সামনে নির্বাচন। এসময় সহযোগী সংগঠনগুলো এমন অসংগঠিত হয়ে পড়াটা ঠিক নয়।’

এসময় ওবায়দুল কাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ আপনেই ঠিক করে দিন।’ জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কেন ঠিক করে দেবো? তোমরা ঠিক করে আমাকে জানাও। আমি নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) জানাবো।’

এর মধ্যে সভাস্থলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন প্রবেশ করলে তাদের প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার খেটেখুটে যে সুনাম অর্জন করে, তা ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সিলেটে আমরা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের মতো একটি বড় কর্মসূচি পালন করে আসলাম। এরপরই সেখানে ছাত্রলীগের গণ্ডগোলে দুই জন মারা গেলো। এটি আমাদের দলের জন্য দুর্নাম।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কারণেই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতা হারায়।’

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওবায়দুল কাদের এভাবে প্রায় ১০ মিনিট ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি বিষোদগার করেন। পরে তিনি মেয়াতোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘ঐতিহাসিক দলিলে’র স্বীকৃতি দেওয়ায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই সভায়।

Saturday, Nov 04 2017

 বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এবার নির্বাচন আমরা করব। যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে আমাদের দল একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবে। কারণ বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচনই হবে না। এ জন্য সরকারকে নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতায় আসতে হবে। নইলে গণবিস্ফোরণ ঘটবে।

Friday, Nov 03 2017

ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ফলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।
কারণ এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। তবে আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও বলতাম না মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করতাম। ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ৩৪২ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে ১৯শে অক্টোবর ও ২৬শে অক্টোবর দুইদিন আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার এবং বিচার বিভাগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার নিরলস প্রয়াসে কখনো বিরতি দেইনি। আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছি। আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে আমি এসব কথা বলছি না। আমার এই অবস্থান, ভূমিকা ও অবদানের বিনিময়ে বাড়তি কোনো সুবিধা বা মর্যাদা দাবি করার কোনো অভিপ্রায়ও আমার নেই। আমি নিজেকে আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বেও মনে করি না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও আরেকজন নেত্রী যে সব সুবিধা ভোগ করেছেন, আমি কখনো আদালতের কাছে তেমন সুবিধা দাবি করিনি। আমি দেশের একজন সাধারণ সিনিয়র সিটিজেনের প্রাপ্য অধিকারটুকু পেলেই খুশি। আইনসম্মতভাবে ন্যায়বিচার ছাড়া মাননীয় আদালতের কাছে আমার চাইবার আর কিছু নেই। আজ আমার প্রতি যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা আমার অবস্থান ও ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং এর মাধ্যমে আমার প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে কিনা- সেটাও আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আমি মনে করি। খালেদা জিয়া বলেন, মাননীয় আদালত- আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো জাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতি পেয়েছে। হয়েছে নতুন নতুন আরো মামলা। দেশে কতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতো মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন? কোন্‌ উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এতো তাড়াহুড়ো? এই তাড়াহুড়োয় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায় বিচারের কবর রচিত হবে? আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও আমরা বলতাম না, মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতাম। এখনো আদালতের কাছে কেবল ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করছি। আশা করি সকল প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রতি আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হবে। ন্যায়বিচারের কথা জোর দিয়ে আমি বারবার বলছি, এর কারণ আছে। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত। খালেদা জিয়া বলেন, আপনি জানেন- এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যয়বিচারকেই প্রভাবিত করে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়, মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলেও ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরাতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ক্ষমতাসীনরা একটি নীলনকশা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট, মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের উচ্চ মহলের কার্যকলাপ, তৎপরতা এবং বক্তব্য-বিবৃতি থেকে তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এসব কারণেই দেশবাসীর মনে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার হবে না। 
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গতকাল সকাল সোয়া এগারটার দিকে আদালতে যান খালেদা জিয়া। পরে ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর দেড়টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আদালতকে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন। ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হলেও তিনি আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনবার ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি। তিনি বয়স্ক ও অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, এটি আদালতকে আমরা অবহিত করেছি। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিদেশে তিনি (খালেদা জিয়া) পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারেননি। চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই আদালতের প্রতি সম্মান রেখে দেশে এসেছেন। খালেদার আইনজীবী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কক্সবাজার সফরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন। তিনি অসুস্থ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারাতেও অসুস্থ নারীদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধার কথা বলা আছে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা তার স্থায়ী জামিনের আবেদন করছি। এসময় আদালতের বিচারক বলেন, তিনি যে বিদেশে থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসলেন এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আপনারা আদালতে দাখিল করেননি। দিয়েছেন কি? এ সময় খালেদার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, লন্ডন থেকে চিকিৎসার কোনো সনদ আনা কঠিন। সেখানে এ ধরনের সনদ কেউ পায় না। আদালতকে তিনি বলেন, মামলায় দুটি আবেদন (১১ সাক্ষীকে রিকল করে জেরা ও মামলা বাতিলের আবেদন হাইকোর্টে খারিজ) আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। আগামী রোববার তা শুনানি হতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য মুলতবি করার আবেদন করেন তিনি। খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এর আগেও তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর অপব্যবহার করেছেন। উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) দুটি ইস্যুতে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো রুল আনতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়া, তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (লন্ডনে অবস্থানরত) সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। এরা দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এখনো পলাতক। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

Thursday, Nov 02 2017

ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে থেমে থাকা দুটি বাসে কারা আগুন দিয়েছে- তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা। এ নাশকতায় জড়িতদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেননি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে নানা আলামত থেকে পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এ নিয়ে তারা অনুসন্ধান শুরু করেছে। বাস দুটির চালকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া শান্ত পরিবহনের বাস দুটির মালিক ফেনী শ্রমিক দলের নেতা মিলন ওরফে হাতু মিলন। ঘটনার সময় তিনি খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ছিলেন।

ফেনী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রমের সময় রাস্তার দুই পাশে লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন।

এ ছাড়া স্থানীয় নেতারা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে গাড়িবহরের আগে ছিলেন। এ অবস্থায় বাইরে থেকে কেউ এসে এমন নাশকতা করতে পারে কি-না সে প্রশ্নও উঠেছে। পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, যেখানে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাস দুটি থাকাই অস্বাভাবিক। সড়কের উল্টো দিকে বাস দুটি রঙ পার্কিংয়ে ছিল। সাধারণত কেউ কোনো গাড়ি পার্কিং করলে তা রাস্তার পাশে রাখে। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া বাস দুটি সড়ক বিভাজকের পাশে ছিল। এ থেকে মনে হচ্ছে, বাস দুটি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবেই রাখা হয়েছিল।

ডিআইজি বলেন, বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ফেনী জেলার এসপিকে তিনি সে নির্দেশনাও দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ছিল না। তবে আশপাশে কোনো সিসিটিভি রয়েছে কি-না, থাকলে তাতে দুর্বৃত্তদের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায় কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলামত বিশ্নেষণে পুলিশ বলছে, অতি দ্রুত বাস দুটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বাস দুটিতে পেট্রোল বোমা ছুড়েছিল। অন্তত চারটি বোমা ছোড়া হতে পারে।

ফেনী পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এর আগেও বিভিন্ন সময় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের নাশকতায় জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাড়ি দুটির চালকসহ আটক পাঁচজন বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নজরদারিতে রয়েছেন বাস দুটির মালিক শ্রমিক দল নেতা মিলন।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে গত মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী শহরের মহীপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের পাশে বাস দুটিতে আগুন দেওয়া হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এ ছাড়া গত শনিবার কক্সবাজারে যাওয়ার পথেও খালেদা জিয়ার বহরে থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। ওই দুটি ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফেনীর রাজনীতি।

স্থানীয় অধিবাসী মফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় মহীপালে বিএনপি কর্মীদের ভিড় ঠেলে অন্য কারও পক্ষে বোমা মারা অবিশ্বাস্য ঘটনা। আর যদি যুবলীগ-ছাত্রলীগের কেউ বোমা মারতে যায়, তাকে বিএনপি নেতাকর্মীদের চেনার কথা।

জানতে চাইলে বিএনপি জেলা সভাপতি আবু তাহের দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা বর্ম তৈরি করেছে সত্য, তবে খালেদা জিয়াকে দেখে সবার নজর সামনের দিকে ছিল। পেছনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ঘাপটি মেরে ছিল। তাদের নিশানা ছিল খালেদা জিয়ার গাড়ি। কিন্তু বিএনপির ঢল দেখে তারা বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের মামলা, অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে :পেট্রোল বোমা ছুড়ে বাস পোড়ানোর ঘটনায় গতকাল রাতে ফেনী থানার এসআই নূরুল হক বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী বরাত ও সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মামুনসহ ২৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। এর আগে শনিবারের হামলায় মঙ্গলবার রাতে ফেনী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক এ কে নজিবুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনকে আসামি করেছে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা হলেন- যমুনা পরিবহনের মালিক আবুল কাসেম মানিক, চালক আবুল কাসেম, চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্টের চন্দন ভৌমিক, চালক হারুনর রশিদ, ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নূরে ছালাম মিলন ও ছাত্রদলকর্মী পেয়ার আহাম্মদ। তাদের কারাগারে পাঠানোর দির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী জেলা বিএনপিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক দুই এমপি জয়নাল আবেদীন ভিপি ও রেহানা আক্তার রানুর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ফেনী সার্কিট হাউসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। ওই কোন্দলের জের ধরে উভয় পক্ষের যে কোনো একটি হামলা করেছে।

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন :এদিকে গতকাল সকালে ফেনীর একটি হোটেলে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, শনিবার খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফসল। বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই হামলা করেছে।

সাংবাদিকরা এমপিকে জানান, টিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমে হামলাকারীদের মধ্যে শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রিয়েল, ফেনী কলেজ ছাত্রলীগ সদস্য সবুজ ভূঞা, শর্শদী মাদ্রাসা কমিটি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফরহাদকে দেখা গেছে। উত্তরে নিজাম হাজারী বলেন, একদল বিএনপি সমর্থক সাংবাদিকদের গাড়িবহরে হামলা করতে গেলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করেছে। এ হামলায় ফেনী সদর থানার কালিদহ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি সোহাগ ভূঞা জড়িত।

নিজাম হাজারী বলেন, মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মহীপাল পার হওয়ার পর সশস্ত্র ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীরা যাত্রীবাহী দুটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এ সময় তারা বিভিন্ন সড়কে বাস-মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা ভাংচুর করে।

অপরদিকে বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের অভিযোগের জবাব দেয় জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপি গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় পুলিশের মামলা প্রসঙ্গে জানায়, ভিপি জয়নাল গ্রুপ ও রানু গ্রুপ নামের কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। পুলিশ হামলার ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নিতে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন ভিপি ও রেহানা আক্তার রানু দাঁড়িয়ে অভিন্ন কণ্ঠে জানান, তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা গ্রুপিং নেই। গাড়িবহরে হামলা ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ আওয়ামী লীগের দেউলিয়া রাজনীতির ফসল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিস্টার প্রমুখ।

Thursday, Nov 02 2017

 বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০তম অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফোর্বস’ সাময়িকী এ তালিকা প্রকাশ করেছে। গত বছর এ তালিকায় তিনি ছিলেন ৩৬তম অবস্থানে।
গতকাল প্রকাশিত এ নতুন তালিকায় ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ২১ নারীর তালিকা তুলে ধরা হয়।
এবার শেখ হাসিনাকে ‘লেডি অব ঢাকা’ আখ্যায়িত করে ফোর্বস জানায়, শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের জন্য ২০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। যা মিয়ানমার স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির অবস্থানের পরিষ্কার বিপরীত।
গত বছর এ তালিকায় ২৬ নম্বর অবস্থানে থাকা সু চি এবার ৩৩তম ।
শত ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় প্রথম পাঁচজন হলেন যথাক্রমে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, যুক্তরাষ্ট্রের মেলিন্ডা গেটস, সেরিল স্যান্ডবার্গ ও মেরি ব্যারা।
উল্লেখ্য, ১০০ জনের তালিকায় ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে আছেন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিনোদন-জগতের ব্যক্তিরাও বাদ পড়েননি এ তালিকা থেকে।

Thursday, Nov 02 2017

 বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০তম অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফোর্বস’ সাময়িকী এ তালিকা প্রকাশ করেছে। গত বছর এ তালিকায় তিনি ছিলেন ৩৬তম অবস্থানে।
গতকাল প্রকাশিত এ নতুন তালিকায় ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ২১ নারীর তালিকা তুলে ধরা হয়।
এবার শেখ হাসিনাকে ‘লেডি অব ঢাকা’ আখ্যায়িত করে ফোর্বস জানায়, শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের জন্য ২০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। যা মিয়ানমার স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির অবস্থানের পরিষ্কার বিপরীত।
গত বছর এ তালিকায় ২৬ নম্বর অবস্থানে থাকা সু চি এবার ৩৩তম ।
শত ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় প্রথম পাঁচজন হলেন যথাক্রমে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, যুক্তরাষ্ট্রের মেলিন্ডা গেটস, সেরিল স্যান্ডবার্গ ও মেরি ব্যারা।
উল্লেখ্য, ১০০ জনের তালিকায় ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে আছেন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিনোদন-জগতের ব্যক্তিরাও বাদ পড়েননি এ তালিকা থেকে।

Page 5 of 13

যারা অনলাইনে আছেন

We have 309 guests and 47 members online

  • southbolswimbpilo
  • orsahalbaanabqui
  • cendelighwressilu
  • mohammedpowell6
  • keeshapape009317894
  • carssimgoohinpoyri
  • leigranesphiconho
  • deand042013556332650
  • rooseveltceja6122777
  • jeffreyrevell817225
  • leifreece77372663
  • magdalenareddick0818
  • kiaramacklin4014
  • j0s90jyfea5p9tu
  • k7k7pilclcdkp
  • sjxuokueriyhvg5
  • l4jptmndwbjxog
  • r65i5i42ai9
  • yi30o3go3vx3m35
  • xkepngb49coq6kb
  • xft96vqes5dqrl
  • w10619weu9xmgk
  • reajix4b33u83r
  • ocibji5u2sne
  • kgqhitc0qvcjs90
  • r2fn83als5iam5

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %