১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ

রাজনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ১ মার্চ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৮ মাসব্যাপী এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ লাখ কর্মীকে পোলিং প্রশিক্ষণ দেবে দলটি।
ইতিমধ্যে ৬ পর্বে ৩শ' সংসদীয় আসনে প্রশিক্ষণের জন্য একটি খসড়া 'সিডিউল'ও প্রস্তুত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পরই তা কার্যকর হবে। এ সংক্রান্ত সার্বিক দায়িত্বে আছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদষ্টো এইচটি ইমাম। দলটির নির্বাচন পরিচালন কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পোলিং এজেন্টদের জন্য আওয়ামী লীগ এবার প্রথমবারের মতো দলীয় নির্দেশনামূলক কাগজপত্র ও নির্বাচনভিত্তিক বই সরবরাহ করবে। নিজস্ব ছাপাখানায় চলছে 'পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ গাইড' ছাপানোর কাজ। এ গাইড বই ছাড়াও প্রশিক্ষণের সময় প্রশিক্ষণার্থীদের দেয়া হবে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার ভিডিও সিডি, একটি স্থিরচিত্রের অ্যালবাম ও দলের মনোগ্রামসংবলিত একটি ব্যাগ। প্রশিক্ষণ দেবে বিদেশী এনজিও সংস্থা, নির্বাচন বিষয়ে অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগ নেতা, দল সমর্থিত নির্বাচনসংশি্লষ্ট সাবেক আমলারা। প্রশিক্ষণে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি সঠিকভাবে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও শেখানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদষ্টো পরিষদ ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য তোফায়েল আহমেদ পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে উলে্লখ করেন।

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা সাংগঠনিক সফর শুরু করেছি। বিভাগীয় দায়িত্বশীলরা জেলা-উপজেলায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী কাজ করছেন। দ্রুতই ভোটকেন্দ্রিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব নেতাকর্মীকে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাওপোড়াও অবহিতকরণ ও সতর্ক নির্দেশনা থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্র পাহারার কাজ করবেন। গত নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সহিংসতার সুযোগ পাবে না।

প্রশিক্ষণের ১ম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে ১ মার্চ।

এদিন মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ। ২য় পর্যায়ে ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু হবে ৭টি বিভাগীয় পর্যায়ে, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। এ সময় বিভাগীয় পর্যায়ের জেলাভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ৩য় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে জেলা সদরে, ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ পর্যায়ে নির্বাচনী আসন ও উপজেলাভিত্তিক পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ হবে।

৪র্থ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ হবে নির্বাচনী এলাকা/উপজেলা সদরে, ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত। এ পর্যায়ে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ৫ম পর্যায়ে হবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্টদের সমন্বয় সভা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগ (অক্টোবর) পর্যন্ত এ পর্যায়ের কার্যক্রম চলবে। ৬ষ্ঠ ও শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্ট এবং মাস্টার ট্রেইনারদের নিয়ে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে (ডিসেম্বরে) আসনভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
উলে্লখ্য, সারা দেশে ৩শ' আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩। মোট ভোট কেন্দ্র ৪৫ হাজার ৫শ'। বুথ সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৫শ'। বুথপ্রতি ৫ জন করে দলীয় পোলিং এজেন্ট মোট ১১ লাখ ৬২ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ। এর বাইরে মাস্টার ট্রেইনারদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ নেতাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।