মানবপাচারের রাজসাক্ষী আমি : দেবাশীষ বিশ্বাস

ঢালিউড
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

মানবপাচারের রাজসাক্ষী আমি : দেবাশীষ বিশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক: গত ৮ ডিসেম্বর মুক্তি পায় দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘চল পালাই’। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য পায়নি। আর এ জন্য ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাইভ টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামজীদ ইল আলম আতুল প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস। এরই মধ্যে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, “লাইভ টেকনোলজিস একের পর এক অন্যায় করে যাবে, তা হতে পারে না। সম্প্রতি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানের সিইও তামজীদ ইল আলম আতুল। আমার কাছে ‘চল পালাই’ ছবির টাকা ফেরত চাইছেন। আমি গিয়েছিলাম আমার ম্যানেজারকে নিয়ে ছবির হিসাব দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার ম্যানেজারকে বের করে দিয়ে আমাকে আটকে রাখেন। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। প্রাণনাশের হুমকি দেন, টাকা না দিলে আমাকে নাকি মেরে ফেলবেন। আমি কেন টাকা দেবো, তা বুঝতে পারছি না। এর আগে তারা হুমকি দিয়েছে, আমরা যারা মালয়েশিয়ায় মানবপাচার নিয়ে কথা বলেছি, আমাদের নামে নাকি মামলা করবেন তিনি। আরে এবার তো আমি বলব, মানবপাচারের রাজসাক্ষী আমি নিজে।’

ব্যবসায়িকভাবে ছবি সফল না হলে পরিচালকের কাছ থেকে প্রযোজক অর্থ ফেরত চাইতে পারেন না, এমন মন্তব্য করে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, “আমার ‘চল পালাই’ ছবিটি প্রযোজনা করেছে লাইভ টেকনোলজিস। কিন্তু ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় তারা টাকা তেমন ফেরত পায়নি। তখন তারা আমার কাছে টাকা দাবি করে। আমি কেন টাকা দেবো? আমি নির্দিষ্ট টাকার পারিশ্রমিক নিয়ে ছবিটি পরিচালনা করেছি, আমি কেন টাকা দেবো? আমার কাছে তাদের সঙ্গে করা চুক্তিপত্রের সব কপি আছে, সেখানে কোথাও উল্লেখ নেই যে ছবি ব্যবসা করতে না পারলে আমাকে টাকা ফেরত দিতে হবে। এর আগে পৃথিবীতে যত ছবি নির্মাণ হয়েছে, সেগুলোর লাভ ও লোকসান দুটোই প্রযোজকের।”

বিষয়টি নিয়ে দেবাশীষ শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ডায়েরি করেছি, এখন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত, কারণ তারা ছোট কোনো গ্রুপ নয়। বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের সঙ্গে তারা যুক্ত।’

গত বছরের শেষের দিকে মালয়েশিয়ায় ‘বাংলাদেশ নাইটস’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানে মানবপাচারের অভিযোগ ওঠে। সে সময় আটক করা হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুনকে। তখন ওই পাচারের সঙ্গে লাইভ টেকনোলজিসের সম্পৃক্ততা আছে বলেও শোনা যায়। মালয়েশিয়ার অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন শিল্পী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ নাইটসে’র উপস্থাপক ছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সেদিন কী হয়েছিল, আমি সব বলব। সবকিছুর প্রমাণ আছে আমার কাছে।

আমি ও আমার সঙ্গে একজন সাংবাদিক সেখানে একসঙ্গে গিয়েছিলাম। আমাদের বারোজনের একটা গ্রুপ টিকেট দেওয়া হয়, আমরা দুজন ছাড়া বাকিরা কারা? তারা কি অনুষ্ঠানের নামে পাচার হচ্ছিল? আমাদের পুঁজি করে কেউ এমন অন্যায় ব্যবসা করতে পারেন না। তারা কি মামলা করবে, আমরাই তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা করব।’