হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় করা অভিযোগ (মামলা) প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। 

তিনি বলেন, ‘নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভয় দেখাতে চান? আপনি বাঘ আর বিড়ালের পার্থক্য বোঝেন না। এটা বাঘ, বিড়াল না। আর বাঘের ঘরে বাঘ-ই জন্ম নেয়, বিড়াল জন্ম নেয় না। বাঘের মুখের সামনে হাত বেশি লেলাইয়েন না।...তারা (মামলার অভিযুক্তরা) ডাকলে শামীম ওসমান লাগবে না, দুই, চার, পঞ্চাশ, এক লাখ লোক আসবে কিন্তু। তখন কিন্তু থামাইতে পারুম না।’

আজ শনিবার বিকেলে নগরীর ইসদার ওসমানী স্টেডিয়ামে অনুগতদের নিয়ে কর্মিসভায় শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া প্রমুখ। তবে ওই কর্মিসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা–কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন।

মেয়র আইভী ও দলের অন্য নেতাদের উদ্দেশ করে শামীম ওসমান বলেন, যদি ভুল করে থাকেন সংশোধন করেন। দলের নেতা–কর্মীদের নামে অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা প্রত্যাহার করেন। 

শামীম ওসমান তাঁর কোনো নেতা–কর্মীকে মার খেতে দেবেন না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি গরিব মানুষের পক্ষে রাজনীতি করেন। তাই তাঁর যা হওয়ার হবে। কিন্তু কর্মীদের তিনি কিছু হতে দেবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কর্মীর গায়ে হাত পড়বে ওই নেতাগিরি শামীম ওসমান করে না। নেতা–কর্মীর নামে অভিযোগ দেওয়ার আগে আপনার (আইভী) বুকটা কাঁপা উচিত ছিল।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘এমন কিছু কথা আছে, যা আমি মাইকে বললাম না। আমার ১০০ শতাংশ কথার মধ্যে ১ শতাংশ কথাও বলি নাই। যে কথা রেকর্ড রেখে বলতে পারব না। এটা আমরা নেতৃবৃন্দকে পরে জানিয়ে দেব।’ তিনি বলেন, সামনে খেলা আছে, সেই ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের একটাই মাত্র পথ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই এক থাকি সকলের দোয়ায়, একটু ষড়যন্ত্র হবে, একটু ঘটনা ঘটবে, একটু অস্থির হবেন, একটু ভয়ও পাবেন কেউ কেউ। আপনারা পাবেন না। একটু উঁচু ধরনের নেতারা পাইব। যাঁরা রাস্তায় নামতে ভয় পাইবেন। আমার দলের সাধারণ সম্পাদকের ভাষায় কাউয়া আর হাইব্রিড। কাউয়া ও হাইব্রিড সব জায়গায় ভইরা গেছে। নারায়ণগঞ্জে ঢোকতাছে। কাউয়া–হাইব্রিডের জায়গা আমাদের এখানে হবে না। আমরা সবার মুখ চিনি। আমরা কাউয়া–হাইব্রিড নিয়ে রাজনীতি করব না। ৩০ তারিখ বারের নির্বাচন। আগামীতে বারের নেতৃত্ব আমাদের দরকার। বারের নির্বাচনের বিপক্ষে কেউ কেউ বিএনপির সঙ্গে মিটিং করতাছে, প্রার্থী পছন্দ নয় বলে। এই কাজটা কইরেন না। সমস্ত সংস্থা রেকর্ড করছে, সমস্ত রিপোর্ট যাচ্ছে পরে কিন্তু ছাড় পাবেন না।’ তিনি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জনসভা করার ঘোষণা দেন। সেখানে মেয়র আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় হকার বসানোকে কেন্দ্র করে আইভী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হকার ও শামীম ওসমানের ক্যাডাররা হামলা চালায় । এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এ সময় সাংসদ শামীম ওসমানের ক্যাডার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়াজুল ও শাহ্ নিজামকে অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র মহড়া ও গুলি চালাতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় মেয়র আইভীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী হয়ে অস্ত্রধারী নিয়াজুল, শাহ্ নিজামসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও এক হাজারকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ওই অভিযোগটি গ্রহণ করে তা জিডি হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত করছে।