Monday, Oct 23 2017

                                                 আজ একে হুঙ্কার, তো কাল ওকে হুমকি। শুধু কি তাই, প্রায় প্রতিদিনই নিত্যনতুন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় মেতে উত্তর কোরিয়া।

Wednesday, Oct 25 2017

                                            কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবির দেখে অস্থায়ী মনে হয় না। প্লাস্টিক ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হাজার হাজার কুটির ছড়িয়ে আছে বিশাল ভূখণ্ড দখল করে। পুরুষরা দলে দলে খুঁটি নিয়ে আসছে আরো এমন কুটির তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

Friday, Oct 27 2017

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজধানীর বাজারগুলোতে এখনও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে শাকসবজি।

Friday, Nov 03 2017

নাছিউর রহমান : বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বহু বছর ধরেই মৃিশল্পের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। তবে তাদের মধ্যে কুমারটুলি, মঙ্গলকোট, কৃষ্ণনগর, দত্তপুকুর বিখ্যাত। কুমারটুলি (কথ্য উচ্চারণে কুমোরটুলি) উত্তর কলকাতায় অবস্থিত একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলটি ‘পটুয়া-পাড়া’ বা মৃিশল্পীদের বসতি অঞ্চল হিসেবে বিখ্যাত।
কুমারটুলি অঞ্চলের মৃিশল্পীদের দক্ষতার কথা সর্বজনবিদিত। কলকাতার এই অঞ্চল থেকে দেব-দেবীর প্রতিমা কেবলমাত্র শহরের সর্বজনীন ও ঘরোয়া পূজার জন্যই সরবরাহ করা হয় না, অনেক ক্ষেত্রেই তা দেশের বাইরেও রফতানি করা হয়। কুমারটুলি পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত হস্তশিল্প (মৃিশল্প) কেন্দ্রও বটে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ইংরেজরা কোম্পানির মজুরদের জন্য পৃথক পৃথক অঞ্চল ভাগ করে, এইভাবে কলকাতার দেশীয়দের অঞ্চলগুলো বিভিন্ন পেশাভিত্তিক পাড়ায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এইভাবেই শুঁড়িপাড়া, কলুটোলা, ছুতার-পাড়া, আহিরীটোলা ও কুমারটুলি প্রভৃতি অঞ্চলের উত্পত্তি ঘটে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বড়বাজার অঞ্চলের আগ্রাসনের শিকার হয়ে উত্তর কলকাতার মৃিশল্পীরা শহর ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কুমারটুলির পটুয়ারা, যারা গঙ্গা-মাটি সংগ্রহ করে মাটির পাত্র ইত্যাদি তৈরি করে সুতানুটি বাজারে (এখন বড়বাজার) বিক্রি করতেন, তারা টিকে যান। পরবর্তীকালে তারা ধনী সম্প্রদায়ের বাড়ির পূজার নিমিত্ত দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করতে শুরু করেন। কলকাতা ও বাইরে বারোয়ারি বা সার্বজনীন পূজার প্রচলন হলে পূজা-কমিটিগুলো কুমারটুলি থেকে প্রতিমা সংগ্রহ করতে থাকে।
মঙ্গলকোট পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমাধীন কুনুর নদীর ডান তীরে অবস্থিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। অজয় নদের সঙ্গে কুনুর নদীর মিলনস্থল পর্যন্ত এর ধ্বংসাবশেষ বিস্তৃত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৬-৯০ সালের মধ্যে এই প্রত্নস্থলটিতে উত্খনন কার্য পরিচালনা করে।
মঙ্গলকোটে পাঁচটি প্রধান সাংস্কৃতিক স্তর বা পর্বের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রথম স্তরে তাম্র-প্রস্তর যুগীয় সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে কালো ও লাল রঙের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মৃত্পাত্রের সন্ধান মিলেছে। অন্যান্য নিদর্শনাদির মধ্যে রয়েছে লাল মৃত্পাত্রের টুকরা বা ফালি; সঙ্গে তামাটে, কমলা, গাঢ় বাদামি এবং দীপ্তিমান লোহিত মৃন্ময়। তবে কালো মসৃণ ও অমসৃণ মৃত্পাত্রের টুকরার সংখ্যাই অধিক। কিছু মাটির পাত্র সাদা বা কালো রঙের চিত্র দ্বারা অলঙ্কৃত। রেডিওকার্বন পদ্ধতির ভিত্তিতে এ পর্বের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ থেকে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মৃিশল্প জাতীয় নিদর্শন হিসেবে লাল, বাদামি, ধূসর ও কালো রঙের সাধারণ মানের মৃত্পাত্রের টুকরা; কালো ও লাল রঙের অপকৃষ্ট শ্রেণির মৃত্পাত্রের টুকরা এবং পূর্ববর্তী স্তরের মৃত্পাত্রের নিদর্শন পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় স্তরের প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে লৌহ নির্মিত বিপুলসংখ্যক তীরের অগ্রভাগ, বাটালি ও ছুরির ফলা ইত্যাদি। এ সামগ্রীগুলো থেকে লোহা ব্যবহারের ক্রমবৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অবশ্য এ সময় হাড়ের সামগ্রী ব্যবহারেরও প্রচলন ছিল।
একদিকে কালো ও লাল মৃত্পাত্রের অনুপস্থিতি এবং অন্যদিকে কয়েক ধরনের নতুন মৃিশল্পের উদ্ভব তৃতীয় সাংস্কৃতিক স্তরকে (মৌর্য-শূঙ্গ আমল: আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১ম খ্রিস্টপূর্বাব্দের শেষ পর্যন্ত) বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। নতুন মৃত্সামগ্রীর মধ্যে নকশাবিহীন ও নকশাঙ্কিত উভয় প্রকারের লাল, ধূসর ও কালো মৃত্পাত্রের টুকরা এবং উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ মৃত্পাত্রের (ঘড়ত্ঃযবত্হ ইষধপশ চড়ষরংযবফ ডধত্ব) অপকৃষ্ট ধরনের অল্প কিছু নমুনা রয়েছে। এ স্তরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ছাপাঙ্কিত তাম্র মুদ্রা, লেখবিহীন তাম্র মুদ্রা এবং মৌর্য-শূঙ্গ শিল্পরীতির বেশ কিছু পোড়া মাটির মূর্তি। চতুর্থ স্তরটি কুষাণ সাংস্কৃতিক পর্বের একটি সমৃদ্ধিসূচক সময়কে তুলে ধরে। এ স্তরে মঙ্গলকোট প্রত্নস্থলে সম্ভবত সর্বপ্রথম ইটের রৈখিক বা লম্বালম্বি কাঠামো দৃষ্টিগোচর হয়। ফুল ও জ্যামিতিক অলঙ্করণের সুস্পষ্ট ছাপ সংবলিত শক্ত লাল মৃত্পাত্র হচ্ছে এ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্যসূচক মৃত্সামগ্রী। এ পর্বের প্রাপ্ত আকর্ষণীয় প্রত্নসামগ্রীর মধ্যে বেশকিছু সিলমোহর, নির্ধারিত ছাঁচে নির্মিত পোড়ামাটির মূর্তি (কোনো কোনো মূর্তি স্বচ্ছ বস্ত্র পরিহিত) রয়েছে। হাতে গড়া পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই বেশ কিছু মূর্তি এই স্তরে পাওয়া যায়। পঞ্চম স্তরটি গুপ্তদের সমসাময়িক এবং একটি সমৃদ্ধ বস্তুগত জীবনের চিত্র তুলে ধরে। পূর্ববর্তী সময়ের মতো এ পর্বেও ব্যাপক নির্মাণ কর্মকাণ্ড দেখা যায়। লালচে বাদামি রঙের অলঙ্কৃত পাতলা মৃত্সামগ্রী এ যুগের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে। এ স্তরে নানা ধরনের প্রতীক সংবলিত বহুসংখ্যক সিল পাওয়া গেছে।
মাটির সামগ্রী তৈরির পদ্ধতি: মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়-
প্রথমে মাটি বাছাই করতে হয়। পলি মাটি দিয়েই মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হয়। এই মাটি মূলত আশপাশের খাল, বিল, নদী, পুকুরের মাটি। তারপর সেই মাটি ঝাড়া হয়। কারণ মাটির সঙ্গে অনেকসময় নূড়ি, পাথর, বালি ইত্যাদি মিশে থাকে। মাটি ঝাড়ার পর মণ্ড পাকানো হয়। এই মণ্ডগুলো বিভিন্ন জিনিসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওজনের হয়। এরপর মাটি মাখা হয় এবং চ্যাপ্টা করে বিদ্যুত্চালিত চাকায় দেয়া হয়। কুমোর এরপর তার নিজের হাতের গুণে গড়ে নেন তার চাহিদামত সামগ্রী। এরপর করা হয় নকশা। এখানেই শেষ নয় এরপর রোদে শুকাতে দেয়া হয় এইসব সামগ্রী। খানিকটা শুকাবার পর সামগ্রীটাকে টেকসই করতে পরিমাণ মতো তাপ দিতে হয়। আগুনের আঁচে পোড়ান হয় সামগ্রীটাকে তারপর প্যাকিং করে বাজারে পাঠানো হয়।
মৃিশল্পের ক্ষেত্রে বহু জিনিসের চাহিদা অনেকটাই কমেছে। যেমন মাটির হাঁড়ি কলসির জায়গায় এখন এসেছে স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র। চাহিদা বেড়েছে মাটির মূর্তি, ঘর সাজাবার নানা উপকরণের। সেই কারণেই মৃিশল্পীরা টব, ফুলদানি, মূর্তি, প্রদীপ, অ্যাশট্রে, ধূপদানি, মোমদানি কফি মগ ইত্যাদি তৈরিতে বেশি মন দিয়েছেন। বর্তমানে এগুলোর চাহিদা বেশি থাকায় মৃিশল্পীদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তা এখনও আশানুরূপ নয়।
এখানে উদাহরণ হিসেবে নরসিংদীর মৃিশল্পীদের বর্তমান দিনকাল সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো। গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে- অস্তিত্ব সঙ্কটে পেশা ছাড়ছেন মৃিশল্পীরা। কালের বিবর্তন আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মৃিশল্প। তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও বিকল্প পণ্যের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি এসব গৃহস্থালি সামগ্রী। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। মৃিশল্পীদের মতে, এক সময় নরসিংদী জেলার মৃিশল্পের খ্যাতি ছিল দেশব্যাপী।
জেলার শিবপুর, পলাশ ও বেলাবো উপজেলার হাজারও পাল পরিবার জড়িত ছিল এই শিল্পের সঙ্গে। এ জেলার মৃিশল্পীদের হাতে তৈরি মাটির জিনিসপত্র নদীপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু দিনের পর দিন আধুনিকতার ছোঁয়া আর পৃষ্ঠপোষতকার অভাবে বিলীন হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।
কম দামে বেশি টেকসই প্লাস্টিক, মেলামাইন, লোহা ও সিলভারের তৈরি সামগ্রীর দাপটে কমে গেছে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা। ফলে পুঁজি ও শ্রম দিয়ে মাটির তৈরি জিনিস বানাতে গিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে মৃিশল্পীদের। মাটি দিয়ে তৈরি এসব গৃহ সামগ্রী রোদে শুকিয়ে চুল্লিতে পোড়ানো হয়, তার পর রঙ করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। বাড়ির গৃহিণীরাও সহযোগিতা করেন এসব কাজে। মৃিশল্পীরা বলছেন, পরিশ্রম ও বিনিয়োগ অনুপাতে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না তারা। এ কারণে পুরনো পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই, খুঁজছেন বিকল্প পেশা। জেলার বেলাব, পলাশ ও শিবপুর উপজেলার হাজারও পাল পরিবারের মধ্যে এখন মাত্র আড়াই শতাধিক পরিবার ধরে রেখেছেন পূর্ব-পুরুষের এই পেশা। পাল পরিবারের নতুন প্রজন্মের কেউ শিখছেন না মৃিশল্পের কাজ।
শিবপুর উপজেলার লেটাবর গ্রামের মৃিশল্পী মনিন্দ্র চন্দ্র পাল বলেন, তৈজসপত্র তৈরির জন্য এখন মাটি কিনে আনতে হয়। কেনা মাটি দিয়ে তৈরি জিনিসপত্রের খরচও বেশি পড়ে। এ যুগে বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখান না ক্রেতারা। এতে আমাদের লোকসান গুণতে হয়।
একই গ্রামের সুনীল চন্দ্র পাল বলেন, আমাদের সন্তানরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অন্য পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। আমরা যারা আছি অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে লেগে আছি। যোশর গ্রামের মৃিশল্পী শশী চন্দ্র পাল বলেন, মৃিশল্পীরা বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিপাকে থাকেন বছরের পর বছর ধরে। আমাদের এটাকে শিল্প বলা হলেও সরকারিভাবে কম সুদে কোনো ঋণ সুবিধা আমরা পাই না। পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পাওয়া গেলে খেল না, শোপিসসহ অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরি করে মৃিশল্পীরা বেঁচে থাকতে পারত, এই শিল্পের ঐতিহ্যও রক্ষা করা যেত। এভাবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মৃতশিল্পীদের কথা যদি ভাবা যায় তবে মৃিশল্প বেঁচে থাকতে পারে। ফিরতে পারে পুরনো ঐতিহ্যে। আর এ শিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ব্যক্তি উদ্যোগ দরকার।
লেখক: কলাম লেখক

Friday, Nov 03 2017

দিনটা ছিল শুক্রবার। দুপুরের নমাজ পড়ে সবে দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে একটা হইচই ভেসে এল। প্রথমেই ছুটে গেল বড় মেয়ে সাকিনা। কিন্তু আধঘণ্টা কেটে গেলেও সেও ফিরল না। বিপদ আঁচ করে বাধ্য হয়ে রান্না ফেলে বাইরে এগোলাম।
তিন চার পায়ের বেশি এগোতে পারলাম না। ঘরে ততক্ষণে ঢুকে এসেছে জনা চারেক ষণ্ডামার্কা মগ যুবক। পিছন পিছন সেনাবাহিনীর আরাকান জওয়ানরা নিয়ে এল স্বামী ও মেয়েকে। দেখলাম, ১৭ বছর বয়সি মেয়ের শরীরের অর্ধেকের বেশি জামা ছেঁড়া। স্বামী এনামুলের পেট ও মুখ থেকে দর দর করে রক্ত ঝরছে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেলেও লজ্জায় মুখ বন্ধ করে রেখেছে সাকিনা। দেখে যেই না আর্তনাদ করে উঠেছি সেই ছুটে এসে মুখ চেপে ধরল মগরা। অন্য বাচ্চাগুলোকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে দিল। পিঠ মোড়া দিয়ে আমায় বাঁধল, সঙ্গে মুখেও কাপড়। স্বামী আপত্তি করতে ফের বেয়নেট দিয়ে পর পর দু’বার পেটে ঢুকিয়ে দিল আরাকান সেনারা। আর মেয়েটাকে নিয়ে রীতিমতো লোফালুফি করছিল মগ গুন্ডারা। পরে বাবা-মায়ের সামনেই কার্যত সমস্ত জামাকাপড় ছুরি দিয়ে কেটে কেটে ফালাফালা করল দস্যুরা। যতবার মেয়ের উপর হামলা হচ্ছিল, ততবারই বাবা প্রতিবাদ করেছে। আর ততবারই ছুরি আর বেয়নেট ঢুকছে তার শরীরে। একসময় স্বামী নিস্তেজ হয়ে প্রাণ হারালেন চোখের সামনে। পর পর অমানুষিক পাশবিক অত্যাচার করে শেষে গলা কেটে দিয়ে গেল মেয়ের। চোখের সামনে স্বামী আর মেয়েকে খুন আর ধর্ষণের নির্মম দৃশ্যের বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাখাইনের মংডু জেলার রারাং গ্রামের লায়লা বেওয়া।
কক্সবাজার থেকে প্রায় ৪৮ কিমি রাস্তা পেরিয়ে মায়নমার সীমান্তের উখিয়ার বালুখালি-১ শরণার্থী শিবিরে যখন লায়লার মুখোমুখি হলাম তখন সূর্য মাথার উপরে। ঘড়িতে বৃহস্পতিবার দুপুর দু’টো বেজে গেলেও দিনের খাবার জোটেনি। ত্রাণ নিতে এসে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে চারটি শিশু আর বৃদ্ধা শাশুড়ি। প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে আসার সময় স্রোতে ভেসে গিয়েছে সাত বছর বয়সি ছেলে আশরাফ। জ্বরে ভুগছে চার বছর বয়সি সুরাইয়া। বাংলা শব্দ দু’একটি থাকলেও রোহিঙ্গা জাতির নিজস্ব ভাষায় কথা বলছিলেন লায়লা। চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথার মিল থাকলেও বার্মিজ ভাষায় লেখাপড়া করেছেন। দোভাষী হিসাবে কক্সবাজার থেকে সঙ্গে যাওয়া শঙ্কর বড়ুয়াই প্রতিটি কথার অর্থ বলছিলেন। কিন্তু চোখে মুখে যে যন্ত্রণা ও লড়াই—জেহাদের অভিব্যক্তি ফুটে উঠছিল তা চমকে দেওয়ার মতোই। বাঁশের অস্থায়ী শিবিরে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, “বার্মিজ সরকারকে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতেই হবে। যেদিন জাতিকে অধিকার দেবে সেদিনই ফিরে যাব।” এত ভয়াবহ পাশবিক অত্যাচার দেখার পরেও ফিরবেন ? প্রশ্ন শেষ করতে দিলেন না চার সন্তানকে নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ে নামা ৪০ পেরনো লায়লা। বললেন,“ওই মাটিতে আমার স্বামী-মেয়ে মারা গিয়েছে। ওখানে আমার সন্তান-স্বামীর রক্ত মিশে গিয়েছে। যতই ওরা বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিক না কেন, ওখানে ফিরবই।” পাশ থেকে একইভাবে সমর্থন জানালেন আরেক সর্বস্ব হারানো বৃদ্ধা আমিনা বেওয়া।

উপমহাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা শিবির দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পা দেওয়ার পর থেকেই মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আমজনতার উত্তাপ টের পেলাম। বিমানকর্মী থেকে যাত্রী, বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বশীল অফিসার- সবার মুখেই রোহিঙ্গা সমস্যা। এবং তা সমাধানের পথ অন্বেষণ। আন্তর্জাতিক লাউঞ্জ থেকে ডোমেস্টিক লাউঞ্জে পা দিলাম, কক্সবাজারের বিমান ধরব। কানে এল- “দাদা চললেন কোথায়?” পিছন ফিরে দেখি, কলকাতায় এক সময় ডেপুটি হাই কমিশনার পদে থাকা আবিদা ইসলাম। সঙ্গে আরেক কূটনীতিক মাহবুব আলম সালেহ। আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটা উচ্চ পর্যায়ের টিম নিয়ে এই দু’জনে শরণার্থী শিবিরে যাচ্ছেন। রাখাইনে কতটা নির্মম ও অমানবিক অত্যাচার চালাচ্ছে সু কি সরকার তা আজ দেখানো হবে আমেরিকান টিমকে।

উখিয়া চেকপোস্ট পেরিয়ে কুতুপালং এলাকা দিয়ে যখন শরণার্থী শিবিরে ঢুকছিলাম তখন রাস্তার দু’পাশে দেখে শুধুই কালো কালো বোরখা পরা মহিলা। কোলে শিশু, সঙ্গে কিশোর। রোহিঙ্গাদের একটা নির্দিষ্ট জোনে আটকে রাখতে চাইছে শেখ হাসিনা সরকার। তাই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হাজার হাজার কালো ত্রিপলের বাড়ি। পাহাড়ি জঙ্গল কেটে দ্রুত ঘর তৈরি করে নিচ্ছেন শরণার্থীরা। কাঠ ও বাঁশ দিয়ে রোহিঙ্গারাই নিজস্ব বাজার থেকে শুরু করে মসজিদ বানিয়েছেন। তবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারি টাকায় তৈরি মাইলের পর মাইল সবুজ অরণ্য, সামাজিক বনসৃজন প্রকল্প। হাসিনা সরকার এদিনও একটা বস্তায় মশারি, চিঁড়ে, ডাল ও জামাকাপড় দিল। তা নিতে ছবি দেওয়া নতুন রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে শিশু-বৃদ্ধা-মধ্যবয়স্ক সবাই ভিড় করেছে। সেই লাইনে যেমন লায়লা বেওয়া দাড়িয়ে তেমনই মংড়ুর একটা পঞ্চায়েতের (স্থানীয় ভাষায় ওকাড়া) প্রধান নুরুজ্জামানও আছে। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কিন্তু শুধু মুসলিম নেই, আছেন হাজারখানেক হিন্দুও। তাঁদের জন্য অবশ্য আলাদা ক্যাম্প হয়েছে।

Saturday, Nov 04 2017

এখন হেমন্তকাল। কিন্তু এ সময়েই হাতছানি দিচ্ছে শীত। শহরে শীতের প্রভাব কিছুটা কম হলেও গ্রামে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শহর আর গ্রামে শীতের আগমন কিন্তু একরকম নয়। তবুও অগ্রীম শীতের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

 

অন্য ঋতুর চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম শীতকাল। শীতের শুরুতেই গ্রামে খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়ে। খেজুর রস, ভাপাপিঠা, চিতই পিঠা, নকশি পিঠা, তিলপুলি, লাল পুয়াপিঠা, দুধে ভেজানো হাতকুলি ছাড়া তো শীত জমেই না। আবার পিঠা খাওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে আনা কিংবা তাদের বাড়িতে যাওয়ার একটা প্রচলন রয়েছে।

 

শীতের শুরু থেকেই শিশিরে ভেজা থাকে ঘাস; কখনও কখনও কুয়াশার কারণে দূরের কিছু দেখা অসম্ভব হয়ে ওঠে। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা চাদর কিংবা বড় কাপড় বিশেষ কায়দায় বেঁধে শীত নিবারণ করে। তবে শহরের চিত্র একটু ব্যতিক্রম। হেমন্তে শহরে শীত সেভাবে পরিলক্ষিত হয় না। তবে শহরেও শীত আসে আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে।

 

শহরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় যখন শুনতে পাবেন, ‘বাইচ্ছা লন একশ’ টাকা, দেইখ্যা লন একশ’ টাকা, যেইডা লন একশ’ টাকা’; বুঝবেন শীত এসে গেছে। এছাড়া আরও একটি ব্যাপার আছে। বিভিন্ন রাস্তার পাশে, গলির ভেতরে দেখবেন পিঠার দোকান। আর সেই দোকানের চারপাশে থাকবে মানুষের ভিড়। অথবা দেখবেন রাস্তার পাশে নারিকেল দেওয়া কিংবা খেজুর গুড়ের ভাপা পিঠার জন্য রীতিমতো লাইন।

 

এ বছর আগাম শীত পড়তে শুরু করেছে। তিন রকম আবহাওয়া শুরু হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। ভোরবেলা কুয়াশা পড়ছে, বেলা বাড়তেই গরম, আর সূর্য ডুব দিলেই শীতল হাওয়া। তবে শীতের শুরুতে প্রস্তুতি নিতে গড়িমসি করে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। প্রথম কয়েকদিন ঠান্ডা আবহাওয়া অনেকেই উপভোগ করে থাকেন। আর তাতেই দেখা দেয় বিপত্তি। শুরু হয় সর্দি-কাশি আর ঠান্ডাজনিত রোগ।

 

তাই শীতে ত্বকের যত্নে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী কিনে রাখুন। এছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত রোগের ব্যাপারেও সচেতন থাকুন। প্রস্তুতি নিন, ভালো থাকুন।

Page 4 of 7

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %