রোহিঙ্গাদের ভূমিতে মিয়ানমারের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ

আন্তর্জাতিক
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

রোহিঙ্গাদের ভূমিতে মিয়ানমারের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ

অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের বুথিডাউং শহরে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ভূমি দখলে নিয়েছে সে দেশের সরকার। সেখানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে দেশটির পুলিশ বাহিনী। জমিগুলো বৈধভাবে অধিগ্রহণ করাৱ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু না বললেও ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে সামরিক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট সোফরেপ এ খবর জানিয়েছে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশু

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে মিয়ানমারের সরকার। দখলকৃত জমির মধ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পাশাপাশি তাদের বেশকিছু পতিত জমিও রয়েছে। দখল করার পর পুলিশ সেখানে পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। এসব স্থানে গবাদিপশু নিয়ে যেতেও গ্রামবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি আর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিজস্ব অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তুলে এনেছে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা জঙ্গি সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) দমনে অভিযান চালিয়েছে। রোহিঙ্গাদের অন্যান্য গ্রামের মতো বুথিডাউং শহরের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সরাসরি কোনও সহিংসতা দেখা যায়নি। তারপরও সেখান থেকে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। রাজ্যজুড়ে সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর পরিবারকে সহিংসতার হাত থেকে বাঁচাতে অনেকে আগেই পালিয়ে গেছেন। এটা দেশজুড়ে চালানো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি সাধারণ কৌশল। সোফরেপ-এর প্রতিবেদন বলছে, মিয়ানমার সরকার এখন কারেন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যু্দ্ধবিরতে রয়েছে।

মিয়ানমারে কারেন উপজাতির প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দা রয়েছে। তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তারপরও তারা বিরোধপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর অবস্থান শক্তিশালী করছে। ‍যদি বা কখনও আবার লড়াই শুরু হলে বাড়তি সুবিধার জন্য তারা এটা করছে। সরকারের আধিপত্য থাকায় কারেন উপজাতিরা রোহিঙ্গাদের মতোই তেমন কোনও প্রতিবাদ করতে পারছে না। কারেন রাজ্য থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র সোফরেপকে জানিয়েছে, সরকার কারেন রাজ্যেও পরিকল্পিতভাবে সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সেখানে কারেনদের কোনও স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেখানে জঙ্গলের বাইরেও স্থাপনা নির্মাণ করেছে মিয়ানমার। যাতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভারী কামান দিয়ে কারেনদের ওপর হামলা চালানো যায়।

মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যেও একই ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অংশ হিসেবেই এই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে। এসব ঘাঁটি থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা পুলিশ ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের যেকোনও প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে পারবে। আর রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ না থাকলেও ভবিষ্যতে এখান থেকে সহজেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো সম্ভব হবে।