দিদির ক্যান্টিন

২৩ বছর আগে সীমা রানী দাস ফ্লাস্কে করে চা বিক্রি করতেন। এখন তাঁর অধীনে কাজ করেন ১৮-২০ জন।

উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) একটি ক্যান্টিন চালান সীমা রানী। প্যানারোমিক নামের ক্যান্টিনটিকে সবাই এখন দিদির ক্যান্টিন বলেই চেনে। 

 

সীমা রানী দাস বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীকে হারান। কাজ নিয়েছিলেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়।

সাত বছর করার পর কাজটা ছেড়ে দিতে হলো। ওদিকে ছেলেটাও বড় হয়ে যাচ্ছিল। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না সীমা।    একদিন আইইউবিএটির উপাচার্য ও প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানকে তাঁর কষ্টের কথা জানানোর সুযোগ পেয়ে যান। ক্যাম্পাসে খাবার বিক্রি করার অনুমতি দেন উপাচার্য। কিন্তু টাকা যা ছিল তা দিয়ে দোকান দেওয়া যাচ্ছিল না। তাই প্রথমে একটি ফ্লাস্ক কেনেন। ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানগুলোতে দাঁড়িয়েই চা বিক্রি করতেন। সেটা ১৯৯৪ সাল। মনে করে কান্না চলে এলো সীমা রানীর। সবাই এখন তাঁকে দিদি বলেই ডাকে। ক্যান্টিনটাকে চেনে দিদির ক্যান্টিন বলে।

 

দিদিরটাই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যান্টিন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৭১ ব্যাচের ফিরোজ আল মামুন বলল, ‘দিদি একটা ব্র্যান্ড। তাঁর আসল নাম জানি না। দরকার তো নেই। ’ সীমা রানী বললেন, ‘গত ২৩ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আসছে-গেছে সবারই আমি দিদি। শুরু থেকেই আমি দিদি। এখনো দিদিই আছি। ’ পাকা ক্যান্টিনঘর হওয়ার পর নতুন নাম প্যানারমিক ক্যাফে হলেও সবাই চেনে দিদির ক্যান্টিন বলে। দিদির ক্যান্টিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো খিচুড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রী আইরাবি হকের সঙ্গে কথা হলো। বলল, ‘আমি প্রতিদিন দিদির ক্যান্টিনে খাই। মনে হয় ঘরের খাবারই খাচ্ছি। ’ আরেক ছাত্র আশিকুন্নবী জানলেন, ‘দিদির ক্যান্টিনে সহজে জায়গা পাওয়া যায় না। খাবারের দাম কমই আছে। চা থেকে সব কিছুই পাওয়া যায়। তাই ক্যাম্পাসে এলেই একবার এখানে ঢু মারি। ’

 

 

 

 

ক্যান্টিনটি ছোট নয় একেবারে। একসঙ্গে ৫০ জন খেতে পারে। সকালের নাশতা পাওয়া যায়। সন্ধ্যার খাবারও। দিদি কাজ শুরু করেন সকাল ৬টায়। শেষ হতে হতে রাত বেজে যায় ৯টা। ক্যান্টিনের আয় দিয়েই পড়ালেখা শিখিয়েছেন ছেলেকে। ছেলে এই আইইউবিএটিতেই পড়েছে (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে)। আর এখন চাকরিও করছে এখানে (ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা)। সেই দুঃখের দিন নেই আর। ছেলে চাকরি করছে, ক্যান্টিনও মন্দ চলছে না। বলছিলেন সীমা রানী, ‘আলিমউল্যা স্যারের কারণে আজ আমার সব হয়েছে। যতদিন বাঁচি এখানেই থেকে যেতে চাই। সবার দিদি হয়েই বাঁচতে চাই। ’

Read 30 times
Rate this item
(0 votes)
Published in ফিচার
Super User

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Mauris hendrerit justo a massa dapibus a vehicula tellus suscipit. Maecenas non elementum diam.
Website: smartaddons.com

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.

যারা অনলাইনে আছেন

We have 231 guests and 25 members online

  • pharlolisepad
  • vascnonpalbswarap
  • gewancasoli
  • kowsgimnisacotre
  • loggpeginlighprosal
  • creepagosnsetanam
  • kendrickihx980111295
  • kaleymarsh4158281
  • dakotajenks276454
  • donaldblock42920682
  • temekavarela32732
  • roseannd6265515360196
  • stewartprovost85921
  • ernesto51104890
  • dustyten0881741
  • x2tio0ysqv
  • 7hw1xo62ylsvc5
  • 575smjj0r6hbis
  • dottyqueen530061
  • h1pj3zhox5uoenl
  • 1z1a7nqair7cts
  • upe8un7xvp5pxu
  • dey4hs1yutnuu9
  • ksfvcpu8i
  • 8xcvpf7bjw73l4x

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %