নির্বাচনের বাইরে রাখার নীলনকশা হচ্ছে: ফখরুল

রাজনীতি
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

নির্বাচনের বাইরে রাখার নীলনকশা হচ্ছে: ফখরুল

 খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দুই দফা টানা আন্দোলন শেষে দু'দিন বিরতি দিয়ে আবার তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য ও নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার নীলনকশা করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আরও নীলনকশা হচ্ছে। নতুন আদালত সৃষ্টি করা হচ্ছে। একটা মামলাকে ভেঙে দুটি করা হয়েছে। বিস্ফোরকের জন্য একটা মামলা, ভাংচুরের জন্য আরেকটা মামলা। অর্থাৎ বিরোধী দল যারা করবে তাদের এই মামলা মোকাবেলা করতে করতে সারাটা জীবন চলে যাবে।

তিনি বলেন, এই ভয়াবহ নির্যাতনের ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ তৈরি করেছে। কারণ তারা জানে, যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়, তারা জয়লাভ করতে পারবে না। তাদের পরিস্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি শান্তি চায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান খালেদা জিয়াকে 'মিথ্যা মামলায়' সাজা দেওয়া এবং পুরান ঢাকার 'পরিত্যক্ত' কারাগারে রাখার ঘটনাকে 'চরমতম নির্যাতন' বলে এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, অতীতে দেশের জন্য লড়াই করা ব্যক্তিদের যেভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো, নির্যাতন করা হতো, তার চেয়ে কোনো অংশে কম করা হচ্ছে না বিএনপি নেত্রীকে। তার মুক্তির দাবিতে দলীয় কর্মসূচি করতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যে কর্মসূচিগুলো দিচ্ছি, তা একেবারেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক; কিন্তু সরকার সেগুলো করতে দিচ্ছে না। আর এই সুযোগ না দেওয়ার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হচ্ছে, তারা কোনো নকশা তৈরি করেছে।

সারাদেশে নাশকতার কথা বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে।

বুধবার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে আছে- শনিবার দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর অভিযান, রোববার সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া এবং মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর বাদে সকল জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ। এ ছাড়া রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া হবে। বিএনপি মহাসচিব আশা করেন, সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করার অনুমতি দেবে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।