হদিস নেই সেই ৫ হাজার অটোর

 অনেক দিন ধরে ঢাকা শহরে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রয়েছে। ২০০৮ সালে চালকদের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

কিন্তু এ নিয়ে অটোরিকশা মালিক সংগঠনের আপত্তিতে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। একই সময় বিভক্তি দেখা দেয় চালকদের সংগঠনের দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রকৃত দাবিদার নিয়ে। এর পর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মামলা শেষ হলেও এখন তা ঝুলে আছে নানা মহল থেকে প্রভাবশালীদের তদবিরের ভয়ে।

জানা গেছে, বর্তমানে চলাচলরত পুরনো গাড়িগুলো বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ৯ বছর চলাচলের জন্য আমদানি করা গাড়ি চলছে ১৫ বছর ধরে। এ বাস্তবতায় প্রায় অকেজো অটোরিকশার মেয়াদ ২১ বছর করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে বুয়েটের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এর বিরোধিতা করছে চালকদের সংগঠনগুলো। তাদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির অনুমোদনের পরিবর্তে নতুন গাড়ি নামানো দরকার। পাশাপাশি সরকারঘোষিত অতিরিক্ত ৫ হাজার অটোরিকশা চালকদের বিতরণ করলে গণপরিবহনে সংকট দূর হবে বলে তারা দাবি করছেন।

ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে ১২ হাজার ৭১৫টি নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯৩৬টি রয়েছে মিশুকের প্রতিস্থাপন। সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৬৫২টি অটোরিকশা চলছে। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ হাজার ৫৬১টির; বাকিগুলোর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর। আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ১৩ হাজার সিএনজি অটোর মধ্যে ৭ হাজার ৪৫৯টির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছর।

এদিকে মাস দুয়েক আগে ঢাকা মহানগরীতে ১৩ হাজারের অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার অটোরিকশা লাইসেন্সধারী চালকদের মাঝে বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছিল বিআরটিএ। গত ২০ সেপ্টেম্বর লেখা এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়Ñ ‘চালকদের জন্য দ্রুত গাড়ি বিতরণে গেজেট প্রকাশ করার বিষয়ে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন এবং ঢাকা জেলা অটোরিকশা ইউনিয়নের জাকির হোসেনের আবেদন দুটি বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। ঢাকা মহানগরীর বিদ্যমান সংখ্যার অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রক্রিয়াধীন।’

এ বিষয়ে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, অতিরিক্ত জমা নিচ্ছেন সিএনজি অটোমালিকরা; আছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। অথচ চালকদের ৫ হাজার অটোরিকশা বিতরণ করলে গণপরিবহন সংকট অনেকটাই কেটে যেত। কিন্তু এ নিয়ে গড়িমসি চলছে দিনের পর দিন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চালকদের আবেদনের সময়সীমা ছিল। সে সময় ৩১৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। তবে এর বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতিসহ একটি গ্রুপের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরই একপর্যায়ে বাংলাদেশ অটোরিকশা চালক সমবায় ফেডারেশন ভিন্ন রিট পিটিশন করে। ওই পিটিশনের রায়ে ফেডারেশনকে সিএনজি অটো বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। এ নিয়ে সলিসিটরের মতামত চাইলে ২০১২ সালে দেওয়া মতামতে বলা হয়, এটি বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ বিষয়। অবশ্য এ মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পক্ষভুক্ত ছিল ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। পরে তারা আবার সমঝোতায় আসেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমঝোতায় এলেও আলোর মুখ দেখছে না পাঁচ হাজার অটোরিকশা।

Read 41 times
Rate this item
(0 votes)
Super User

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Mauris hendrerit justo a massa dapibus a vehicula tellus suscipit. Maecenas non elementum diam.
Website: smartaddons.com

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %