অশুভ’ জন্মদিন রোনালদোর

অনলাইন ডেস্ক: রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর এমন জন্মদিন কাটেনি তারক্যারিয়ারের অনেক অলিগলি পেরিয়ে এসেছেন তিনি। সাফল্যের ভেলায় যেমন ভেসেছেন, তেমনি দেখেছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। তবে জন্মদিনটা বরাবরই কেটেছে তার দুর্দান্ত, অন্তত রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর বিশেষ এই দিনটি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো উদযাপন করেছেন পরম আনন্দে।
আজ (সোমবার) রোনালদোর ৩৩তম জন্মদিন। কিন্তু ‘৩৩’ সংখ্যাটা অশুভ হয়েই থাকলো পর্তুগিজ যুবরাজের জন্য! এমন কঠিন জন্মদিন কখনও উদযাপন করতে হয়নি তাকে। মাঠের ফুটবলে দলের যেমন বাজে অবস্থা, তেমনি দুঃসময় পাড়ি দিচ্ছেন নিজে। জন্মদিনের আগে লেভান্তের সঙ্গে রিয়ালের ২-২ গোলে ড্র করা ম্যাচে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকাকে বদলি হয়ে ছাড়তে হয়েছে মাঠ। লা লিগায় তার গোল মাত্র ৮টি, ২০১০ সালের পর এতটা খারাপ সময় কাটাননি তিনি। পরিসংখ্যান কিন্তু সে কথাই বলছে।

২০১০: ছিলেন গোলের পথে

২০০৯-১০ মৌসুমে তার ২৫তম জন্মদিনের আগের ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল রিয়াল। তার আগের ম্যাচেই মালাগার বিপক্ষে আবার দেখেছিলেন লাল কার্ড, তার সঙ্গে দুই মাসের ইনজুরিতে কঠিন সময়ই পার করতে হয়েছিল রোনালদোকে। তবে মাঠের সময়টুকু উপভোগ করেছেন তিনি, জন্মদিনের আগে খেলা ১৬ ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ১৫বার।

২০১১: ২৬তম বছরে ৩৪ গোল

২৬তম জন্মদিনের একদিন পর রোনালদো জোড়া গোল করেছিলেন রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে। যাতে গোল সংখ্যা ৩৪-এ দাঁড়ানো পর্তুগিজ যুবরাজ প্রথমবারের মতো হাতে তোলেন পিচিচি ট্রফি। লিগে ৪১ গোল করলেও বার্সেলোনার কাছে হারতে হয় শিরোপা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষেই শেষ হয় তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা।

২০১২: হ্যাটট্রিকে উদযাপন ২৭

সাবেক ম্যানইউ তারকা ২৭ বছরে পা রেখেছিলেন পাঁচ হ্যাটট্রিক নিয়ে। সংখ্যাটা ছয়ে নিয়ে যান তার জন্মদিনের পর প্রথম ম্যাচেই। লেভান্তের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পাওয়া রোনালদো মৌসুমের ওই পর্যায়ে ৩৩ ম্যাচে করেছিলেন ৩১ গোল, যার মধ্যে ২৪ গোল এসেছিল লা লিগা থেকে। শেষ পর্যন্ত ৪৬ গোল নিয়ে মৌসুম শেষ করা পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর পারফরম্যান্সে লিগ শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল, যদিও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয় চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে।

২০১৩: ২৮তম বছরের শুরুতেও হ্যাটট্রিক

২৮তম জন্মদিনের আগে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মিলে ৩৪ ম্যাচে রোনালদোর গোল ছিল ৩৩। জন্মদিনের পর ৯ ফেব্রুয়ারি খেলতে নামা প্রথম ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি। যদিও বার্সেলোনার কাছে আবারও হারতে হয় লা লিগা, সেবার রিয়াল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে শেষ করেছিল লিগ মৌসুম।

২০১৪: গোলের ধারা ছিল সচল

বয়স বাড়লেও রোনালদোর খেলায় ছিল না তার কোনও ছাপ। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোল বন্যায় ভাসিয়েছেন প্রতিপক্ষদের। জন্মদিনের আগে ৩১ ম্যাচে তার লক্ষ্যভেদ ছিল ৩২বার। মৌসুমটাও শেষ হয়েছিল তার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে।

২০১৫: ৩০তম জন্মদিনও ছিল রঙিন

ফেব্রুয়ারির আগে দারুণ সময় কাটিয়েছিলেন সে বছর। নামের পাশে ছিল ২৮ গোল, মৌসুম শেষে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৪৮-এ। যদিও সেবার জেতা হয়নি লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ।

২০১৬: স্মরণীয় বছর

৩১তম জন্মদিন রোনালদো উদযাপন করেছিলেন নামের পাশে ২৯ ম্যাচে ৩০ গোল নিয়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ছিলেন তিনি অপ্রতিরোধ্য। গ্রুপ পর্বেই বল জালে জড়ান ১১বার! তার সঙ্গে ফাইনালে টাইব্রেকারে তার দেওয়া গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা আবার ঘরে ওঠে রিয়ালের।

২০১৭: ৩২ বছরেও সেই রোনালদো

২০১৬-১৭ মৌসুমে তার জন্মদিনের আগে রোনালদোর ২৫ ম্যাচে গোল ছিল মাত্র ২০টি। বয়সের কথা চিন্তা করে কোচ জিনেদিন জিদান একটু বাড়তি ‘যত্ন’ নিয়েছিলেন তার। প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে শিরোপা ধরে রাখার পথে তিনিই ছিলেন মূল কারিগর। বিশেষ করে নকআউট পর্বে পর্তুগিজ যুবরাজ উড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষদের।

২০১৮: নিজের সেরা থেকে অনেক দূরে

চলতি মৌসুমে ২৭ ম্যাচে তার গোল ২০। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর জন্মদিনের আগে এমন কঠিন সময় কাটাতে হয়নি তাকে কখনও। লিগে তার গোল সংখ্যা মাত্র ৮টি। চ্যাম্পিয়নস লিগটাই শেষ বাতি হয়ে জ্বলে আছে ‘সিআরসেভেন’-এর জন্য।