খাতা দেখায় অবহেলা ৭২ পরীক্ষককে শোকজ

                                                                                                                                       চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চরম অবহেলার অভিযোগে ৭২ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদেরকে বোর্ডে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যত্রুম থেকে বহিষ্কারসহ

এমপিও স্থগিত করার সুপারিশ করা হবে। একই ধরনের অভিযোগে অন্যান্য বোর্ডের আরো কয়েক শতাধিক পরীক্ষককে শোকজ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় খাতা দেখার ক্ষেত্রেও যারা এ ধরনের গর্হিত কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ অভিযুক্ত এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ দেয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার মানবজমিনকে বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শৃঙ্খলা ফিরাতে আমাদের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পেয়েছি। পুনঃনিরীক্ষণে ফল প্রকাশের পর এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ  তদন্ত করে  গুরুতর অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। এখন তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদেরকে পরীক্ষা সংত্রুান্ত সকল কার্যত্রুম থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন- গণিত বিষয়ে পরীক্ষক ২০ জন। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ১৪ জন। বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা বিষয়ে ২ জন। হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ২ জন। ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ১ জন। রসায়ন বিষয়ে ৭ জন। বাংলা বিষয়ে ৮। ইংরেজি বিষয়ে ১০ জন। জীব বিজ্ঞান বিষয়ে ৪ জন। পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ২ জন। সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে ১ জন। ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং বিষয়ে ১ জন।
শোকজ খাওয়া পরীক্ষকরা হলেন, গুণময় ভট্টাচার্য, মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুম, তপন কুমার চক্রবর্তী, মৃণাল কান্তি সরকার, আলতাব হোসেন, একে রেজাউল করিম, আবদুর রহমান, এনায়েত আজাদ, সন্দীপ চন্দ্র চক্রবর্তী, শামসুন্নাহার, বৃন্দপত্র বিশ্বাস, আইয়ুব আলী, ফেরদৌস আরা রাজ্জাকী, আল আশরাফ রশিদ, খাইরুল আলম, ফজলুল রহমান, মিলন কুমার বিশ্ব, মোহাম্মদ রেজাউল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম, ইতি রানী চক্রবর্তী, একেএম সাঈদ হোসেন, মনিরুল আলম, আঁখি প্রিয়া সরকার, জাহিদা আক্তার, ফেরদৌসী বেগম, মোবারক হোসেন, আলমগীর, রাশেদুল হাসান, রামিজা আক্তার, আবদুল সালাম, নাসির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, সোহরাব হোসাইন, অঞ্জল রায়, স্বদীফ চন্দ দাস, আক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান, সুলতানা হেলেনা খানম, আবদুল কাদের, মমতাজ বেগম, শাহজাহান হোসেন, শাহনাজ পারভীন, রেজাউল হক, শেখ আবদুস সাত্তার, শ্যামল চন্দ্র দাস, মাহমুদ সাইফুদ্দিন, হাবিল উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার, আল আমিন, গোলাম ফারুকী, মোল্লা মফিজুর রহমান, আবু কাউসার, কালী সনকার সরকার, আল আমিন, আশরাফুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, কাজী মমিনুল হক, ফেরদৌস আরা বেগম, শারমিন রহমান, শেকান্দার আলী, আমিনুল ইসলাম, রোকসানা আক্তার, দিলীপ কুমার চক্রবর্তী, ইয়াসমিন আক্তার, আবদুল রশিদ, আবদুর রহমান ও বেলাল হোসেন।
গত বছর জেএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই মনগড়া ভিত্তিতে নম্বর দেন ময়মনসিংহের তিনজন শিক্ষক। পুনঃনিরীক্ষণের পর বিষয়টি নজরে আসে বোর্ড কর্তৃপক্ষের। তদন্ত করে এর প্রমাণ পায় বোর্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তিন পরীক্ষককে বোর্ডের সব কার্যত্রুম থেকে তাদের বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাদের বেতনের সরকার অংশ এমপিও স্থগিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করান রাজশাহী বোর্ডের একজন পরীক্ষক। বিষয়টি পত্রিকায় আসার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বোর্ড। এছাড়া আরও নানা ধরনের অনিয়ম, অবহেলা দায়ে বিভিন্ন সময় পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এমন বিতর্কে পর খাতা মূল্যায়নে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষকদের খাতা মনিটরিংসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানান।

 

Read 64 times
Rate this item
(0 votes)
Published in শিক্ষা
Super User

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Mauris hendrerit justo a massa dapibus a vehicula tellus suscipit. Maecenas non elementum diam.
Website: smartaddons.com

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %