Saturday, Sep 23 2017
ফাইল ছবি

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। আান্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস পর এমন প্রস্তাব দিল দেশটি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকে মিয়ানমার এ প্রস্তাব দেয়। নিউইয়র্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে একথা বলা হয়েছে।

 

নিউইয়র্কে নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে বলা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পাঁচ দফা তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। বৈঠকে মিয়ানমারের উপদেষ্টা জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বসতে চায়।

এর আগে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে মে মাসে মিয়ানমার সরকারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। এর আগেও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা ফেরত গেছে এবং ওই পরিকল্পনায় সচিব বা অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের বৈঠকের কথা বলা আছে যারা পুরনো পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে নাকি নতুন কোনো উপায় বের করা হবে সেটি নিয়েও আলোচনা করবে। সংকট সমাধানে তারা যে সিরিয়াস সেটা দেখানোর জন্য আগেও মিয়ানমার এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আলোচনার টেবিলে তাদের কাছ থেকে এ সমস্যার সমাধানে আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হলে মিয়ানমার ৩ মাস সময় নিয়েছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার জন্য। সেবার জানুয়ারিতে মিয়ানমার সরকার ‘কেউ টিন’ নামে এক বিশেষ দূতকে কোনো ম্যান্ডেট ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ঢাকায় পাঠায়। ওই সময়ে বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছেন। তখন বিশেষ দূত বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আছেন দুই হাজার মাত্র। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, বাংলাদেশ সরকারের দেয়া হেলিকপ্টারে কক্সবাজার গিয়ে রোহিঙ্গাদের সরেজমিন দেখুন। ওই বিশেষ দূত তখন বলেন, এভাবে সরেজমিন যাওয়ার কোনো ম্যান্ডেট তার নেই।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে বসতে রাজি হয়েছে কিন্তু এটি চাপ লঘু করার কৌশল। যেটি এর আগে মিয়ানমার প্রয়োগ করেছে। অক্টোবর পরবর্তী সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বসতে ৩ মাস সময় নিয়েছিল এবং এমন একজনকে পাঠিয়েছিল যার কোনো ম্যান্ডেট ছিল না।’ কিন্তু একই ধরনের সহিংস ঘটনা ডিসেম্বরে চীন সীমান্তে হওয়ার দু’দিনের মধ্যে দু’পক্ষের সামরিক বাহিনীর জেনারেল পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চাই এবং এজন্য আমরা অবশ্যই বসব কিন্তু আমরা তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও সজাগ থাকব।’

Saturday, Sep 23 2017
 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির সঙ্গে কোন রাজনৈতিক সমঝোতার কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে না আসে। গতকাল রাত ৮টা ও নিউইয়র্ক সময় সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী নই। তাই বিএনপি’র সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া কারো উচিত হবে না। যারা হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যাকান্ড এবং দেশকে ধ্বংসে বিশ্বাসী তাদের সঙ্গে কোন রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে না। তিনি বলেন, যারা আমার বাবা-মাকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে কখনও সমঝোতা হতে পারে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সফলতার সম্পর্কে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

Friday, Sep 22 2017

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ত্রাণ পাঠিয়েছে ইরান।

 

ঢাকায় ইরানের দূতাবাস জানায়, ইরান রোহিঙ্গাদের জন্য বৃহস্পতিবার আরও ২৯ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।

বিকাল ৩টায় ত্রাণবাহী ইরানের একটি বিমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে পৌঁছেছে। এবারের চালানে রয়েছে তাবু, কম্বল, শতরঞ্জী ও ওষুধপত্র।

এরআগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইরান একটি কার্গো বিমানে করে ৪১ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠায়।

১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

প্রথম দফায় পাঠানো ৪১ টন ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল তাবু, কম্বল, চা, চিনি, তেল, কাপড় চোপড়, ওষুধসহ ৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী।

Friday, Sep 22 2017

 

 

বারো বছরের কিশোরী রাশেদা এখন আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। প্রাণ নিয়ে রাখাইন থেকে পালাতে পারলেও দুঃসহ স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। মাত্র ক’দিন আগের কথা। বড় বোন ইয়াসমিন ও তাসমিনের সাথে তাকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় দুই বোনকে। ভাগ্যগুণে কোন রকম পালাতে পেরেছিল রাশেদা। কিন্তু বাড়িতে এসে দু’দিন পর আরেক নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। চোখের সামনে মরতে দেখেছে বাবাকে। এতসব দুঃস্হ স্মৃতি নিয়ে রাশেদা বেঁচে থাকাই যেন অভিশাপ হয়ে উঠেছে এই বালিকাটির জন্য।

 

কাঁপা কণ্ঠে রাশেদা বলছিল সেনাদের হাত থেকে পালিয়ে আসার কথা। “ঝোপঝাড়ের নিচ দিয়ে লুকিয়ে, কখনো বা পানিতে ভেসে ভেসে এসেছি। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন আমাদের। অনেক অত্যাচার করা হয়েছে আমাদের ওপর।”

সুচি সরকারের সেনাবাহিনীর হাতে এমন বর্বরতার শিকার নারীর সংখ্যা আদৌ কত তা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সেনারা যে গণহারে নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তা বুঝা যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া অন্য অনেকের সাথে কথা বলে। যাকেই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন ধর্ষণ-গণধর্ষণের মতো ঘটনা। এমনকি ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যাও করা হয়েছে অসংখ্য তরুণী-কিশোরীকে।

একজন বললেন, ‘ওরা আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে একের পর এক হত্যা করেছে।” অন্য একজন জানালেন সুন্দরী তরুণীদের ওপর চালানো বর্বতার কথা। “যুবর্তী ফর্সা মেয়েদের ধরে ধরে নির্যাতন করছে। কারো শরীরের অঙ্গ পর্যন্ত কেটে নেয় সেনারা।”

এসব ঘটনার শিকার নারীরা আদৌ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হয়ে ক্যাম্পে চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করা ডা. নাসরিন বলেন, তারা এমনতিই সাধারণ সহিংসতার ট্রমা নিয়ে এখানে এসেছে। তার ওপর নারীদের মধ্যে যারা ধর্ষণের শিকার হয়ে এসেছেন তারা ভয়াবহ মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সামাজিক কারণে অনেকে এমন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করতে চান না।

Friday, Sep 22 2017




বেড়েইে চলেছে চালের দাম। কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

খুচরা, পাইকারি ও মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের বাজারের এ অস্থিরতার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- মিল মালিক ও বড় কৃষকদের মজুদদারি, দফায় দফায় বন্যা এবং রফতানিকারক দেশগুলোর চালের দাম বাড়িয়ে দেয়া। এছাড়া কৃত্রিমভাবে এসব সংকট তৈরি করে চালের দাম বাড়ানো হলেও এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।



রাজধানীর বাজারে শুক্রবার মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ৩,১০০ থেকে ৩,২০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ২,৮০০ টাকা। বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৩শ’-৪শ’ টাকা। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬৪-৬৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৩-৬৪ টাকা। নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা ৩,৫০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩,২০০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়, যা
গত সপ্তাহে ছিল ৬৪-৬৫ টাকা। গুটি স্বর্ণা বস্তা বিক্রি হয়েছে ২,৬০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২,৩০০ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা। বিআর-২৮ চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ২,৮০০ থেকে ২,৯০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২,৬০০ থেকে ২,৭০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৬-৫৭ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৩-৫৪ টাকা। চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা ৪,৫০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪,৩০০ টাকা। খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা।

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কাওরানবাজারের মেসার্স মতলব ট্রেডার্সের মালিক আবু রায়হান জগলু বলেন, মিল মালিকরা চাল মজুদ করায় দাম বেড়েছে। তারাই সবকিছু বলতে পারেন, কেন চালের দাম বেড়েছে। কাওরানবাজার কিচেন মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চাল ব্যবসায়ী হাজী লোকমান হোসেন বলেন, হাওর অঞ্চলে বন্যা ও উত্তরাঞ্চলে দ্বিতীয়বার বন্যা, মিল মালিক ও বড় কৃষকদের মজুদদারি মনোভাব এবং ধানের জমিতে পাট, অন্য ফসল ও মাছের ঘের তৈরির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চালের দাম বাড়ছে। এছাড়া সরকার চালের শুল্ক কমিয়ে দিলেও ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্য দেশগুলো চালের দাম বাড়িয়েছে। ফলে বেশি দামেই আমদানি করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কবির হাসান লিটন বলেন, দেশে চালের সংকট নেই। মিনিকেট চাল যে ধান দিয়ে তৈরি হয় সেই ধান মজুদ করেছেন মিলাররা। তাছাড়া গ্রামে মিলের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় ধানের উৎপাদন বাড়েনি। ফলে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় ধানের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে চালের ক্ষেত্রে।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও দায়ী করেছেন একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের। তিনি বলেন, আমরা চালবাজি ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে আছি। কারণ বাংলাদেশেই এক কোটি টন চাল আছে, তারপরও এ অবস্থা।

হুশিয়ারি দিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, মজুদদার, আড়তদার, মিল মালিকসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাব- এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। আপনারা যেভাবে (চালের) দাম বাড়াচ্ছেন, যেভাবে সিন্ডিকেট করে চালবাজি শুরু করেছেন, চাল নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন, একটা বিভ্রাট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন- এটা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। এখনই শেষ সুযোগ, আপনারা ভালো হয়ে যান।

এদিকে চালের এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের।

শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, যেভাবে লাগামছাড়া দাম বাড়ছে এতে ভাত খাওয়াই ছেড়ে দিতে হবে, যা আয় হয় তার বেশিরভাগই চলে যাচ্ছে চাল কিনতে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তো সাধারণ মানুষের পুষ্টির অভাব দেখা দেবে। কেননা আমাদের মতো মানুষ এখন বাধ্য হয়েই তরকারি কম করে কিনছে।

 রাজশাহী প্রতিনিধি জানায়, দেশের শস্যভাণ্ডার খ্যাত রাজশাহী অঞ্চল থেকে চালের চালান কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ সংকট আরও বাড়িয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত চালের এলসি খোলা বন্ধ করে দেয়ায়। অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা বলে ভারত চাল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক চালকল মালিক জানান, তিন মাস ধরে ধানের সংকট চলছে। এ তিন জেলা থেকে প্রতিদিন তিনশ’ থেকে চারশ’ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হতো। ঈদের পর সেটা নেমে এসেছে ৫০ ট্রাকে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর খুচরাবাজারে চিকন পারিজা জাতের চাল কেজিপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, চালের মূল্যবৃদ্ধিতে ভারতের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন জেলা চালকল মালিকরা। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যা ও রোগবালাইয়ের কারণে গত ইরি-বোরো মৌসুমে প্রায় ৫০-৬০ লাখ টন উৎপাদন কম হয়। জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সরকার আমদানি উৎসাহিত করার জন্য ২৮ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এরই মধ্যে ভারত চালের দাম বৃদ্ধি করেছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঈদের পর থেকে শেরপুরের খুচরাবাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৭ টাকা। ঢাকলহাটি এলাকার মিল মালিক প্রদীপ সরকার, সাজ্জাদ হোসেন সুমন ও দিলীপ সরকার জানান, চাহিদা মোতাবেক ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাওয়া গেলেও ২৮ ও ২৯ ধান ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা মণ দরে কিনতে হচ্ছে।

ধানের সংকটে শেরপুরের অধিকাংশ চাতাল ও চালকল বন্ধ। চালের আড়তদার সাইফুল ইসলাম ও গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, চাহিদা মোতাবেক মিলগুলো থেকে চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, চালের অব্যাহত দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে মিল মালিকদের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন সর্ববৃহৎ চালের মোকাম দিনাজপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরা। আর মিল মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনাজপুরের মিলগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা বৃদ্ধি করেছেন মিল মালিকরা। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, মিলগুলোতে চাল পাওয়া গেলেও তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন।

বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, মিলে চাল নেই- এমন কথা বলছেন না কোনো মিল মালিকই। সব মিল মালিকই একসঙ্গে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিরল উপজেলার ধান ব্যবসায়ী সোহরাব আলী জানান, মিলের উৎপাদন খরচসহ প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৩৬ টাকা, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চাল ৩৩ টাকা এবং প্রতিকেজি হাইব্রিড মোটা চাল ৩০ থেকে ৩২ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু বর্তমানে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চাল ৫১ টাকা এবং হাইব্রিড মোটা চাল কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। তবে জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়াতেই বেড়েছে চালের দাম। মিল মালিকদের কোনো কারসাজি নেই।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, আমদানি করা পচা চাল কেউ না কেনায় বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন মিল মালিকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর চাল মোকাম কুষ্টিয়ায় এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে তিন দফায় কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত। মঙ্গলবার দুপুরে খাজানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রশিদের চালকলে টাস্কফোর্স অভিযান চালায়।

তার ১৩টি গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন টাস্কফোর্সের প্রধান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম।

যশোর ও বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, গত ১০ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০ হাজার ৮৭৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। শুক্রবারও বন্দরে বিপুল পরিমাণ চাল খালাসের অপেক্ষায় ছিল। চালের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে দাম স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের অভিযোগ। যশোরের খুচরাবাজারে এক সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যশোর জেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের দাবি, একশ্রেণীর ব্যবসায়ী চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় বাজারে চালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত থেকে ৩৫-৩৮ টাকা কেজি দরে আমদানি করা চাল ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৫০-৫২ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ করে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Friday, Sep 22 2017

 

 

 

 বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Page 25 of 30

যারা অনলাইনে আছেন

We have 316 guests and 36 members online

  • glaxclerge
  • incuhyterscomsa
  • rijcflathanphochicta
  • collettecowart45
  • optionmoon6
  • HammondKoch4
  • RavnFrederick2
  • ParksChoi06
  • donnell76678423042
  • PorterKessler19
  • vedacjh56445563324133
  • glennklg16086538
  • angelinadorman3
  • jarrodcameron0699
  • oamsallie6999161964
  • duaneriver4872840
  • trudynoland95639996
  • solomonkimbrough58
  • xumodiha
  • irhibesa
  • susiefreitag017
  • camillablakely454338
  • ml09c2p2hqki9l
  • uwrimpiqu
  • shennamount39214103
  • 65s61xmun8e5pu2
  • tullrmjvuwgldj
  • onovrude
  • fxiqwaddo
  • aidanjerome706091
  • bjbngdgxjhgo33
  • opqavuvgo
  • louisalarnach715509
  • 92g7kd6hfvkhubn
  • nc2xonpmx4t4vr
  • cp1wryfl2ozipr

Subscribe to our newsletter

ইভেন্ট

ছবি ও ভিডিও

Style Setting

Fonts

Layouts

Direction

Template Widths

px  %

px  %